মওলিদুন্নবী (দ:)-এর উদযাপন ও অনুমতি (তৃতীয় অধ্যায়)

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী

অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

[Bengali translation of Shaykh Tahirul Qadri’s book “Mawlid al-Nabi: Celebration and Permissibility. Translator: Kazi Saifuddin Hossain]

[উৎসর্গ: পীর ও মোর্শেদ হযরতুল আল্লামা সৈয়দ এ, জেড, এম, সেহাবউদ্দীন খালেদ আল-কাদেরী আল-চিশ্তী (রহ:)-এর পুণ্যস্মৃতিতে…]

তৃতীয় অধ্যায়

আম্বিয়া (আ:)-এর মওলিদের স্মরণ: একটি কুরআনী বিশ্লেষণ

ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন নিদর্শন বা চিহ্ন, যেগুলো মুসলিম উম্মাহ’র (মানে সমাজের) প্রতি এবাদত-বন্দেগীর আকারে বাধ্যতামূলক হয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলোতে আমরা একখানা বিশ্লেষণ পেশ করেছি। যদি আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দের জীবন এবাদতের মাধ্যমে স্মরণ করা যায়, তাহলে মহানবী (দ:)-এর আশীর্বাদধন্য শুভাগমনকে কেন উদযাপনের মাধ্যমে স্মরণ করা যাবে না? কুরআন মজীদের গভীর অধ্যয়ন দ্বারা প্রতীয়মান হবে যে আল্লাহতা’লার নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের বেলাদত (ধরাধামে শুভাগমন)-কে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বর্ণনা দেয়া একটি ঐশী প্রথা। এই অধ্যায়ে আমরা আলোকপাত করবো আল-কুরআন কীভাবে পয়গম্বর (আলাইহিমুস সালাম)-বৃন্দের বেলাদতের কথা উল্লেখ করেছে।

৩.১ মওলূদের পটভূমি

আরবদের মাঝে ইমামবৃন্দ ও হাদীসশাস্ত্রবিদমণ্ডলী রাসূলুল্লাহ (দ:)-এর বেলাদত-বিষয়ে অনেক বইপত্র লিখেছেন। তাঁদের প্রচলিত ভাষায় এধরনের সাহিত্য ‘মওলিদ’, ‘মাওয়া’লীদ’ বা ‘মওলূদ’ হিসেবে বহুল পরিচিত। আরব বিশ্বে রবিউল আঊয়াল মাসে সর্বত্র প্রসারলাভকৃত সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানবৃন্দের একটি ঐতিহ্য বিদ্যমান, যা’তে মওলিদ পাঠের জন্যে তাঁরা সভা-সমাবেশের আয়োজন করেন এবং মহানবী (দ:)-এর আশীর্বাদপূর্ণ বেলাদতকে ঘিরে ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর উল্লেখ-ও করেন। ইমামমণ্ডলী ও হাদীসবেত্তাবৃন্দের লেখা মওলূদ শরীফ মদীনা মোনাওয়ারা, মক্কা মোয়াযযমা, সিরিয়া, মিসর, ইরাক, ওমান, জর্দান , আরব আমিরাত, কুয়েত, লিবিয়া ও মরক্কো ছাড়াও পৃথিবীর সবদেশে পাঠ করা হয়। উর্দূভাষীদের মাঝে এটা ’মীলা’দ-না’মা’ হিসেবে পরিচিত।

৩.২ আম্বিয়া (আ:)-বৃন্দের স্মরণ: এক ঐশী-প্রথার চর্চা  

কতিপয় ’আধুনিকতাবাদী’ এ মর্মে ধারণা লালন করেন যে মহানবী (দ:)-এর আশীর্বাদপূর্ণ বেলাদত এখন অতীত একটি ঘটনা, তাই এর উদযাপনের কী প্রয়োজনীয়তা রয়েছে? তাদের দৃষ্টিতে হুযূর পাক (দ:)-এর জীবন ও সুন্দর আচার-আচরণকেই স্মরণ করা উচিত। বস্তুতঃ এধরনের মানসিকতা আল-কুরআনের দৃষ্টিভঙ্গি বা দর্শনের সম্পূর্ণ খেলাফ। তাই এই বিভ্রান্তি যাতে দূর হয়ে যায়, সেজন্যে এ বিষয়টির সমাধান জরুরি।

আল-কুরআন ও হাদীস শরীফের (সূক্ষ্ম) বিশ্লেষণ আমাদেরকে জ্ঞাত করে যে আল্লাহতা’লার প্রিয় ও মনোনীত বান্দাদেরকে স্মরণ করা কেবল এবাদত-ই নয়, বরং এটা স্বয়ং আল্লাহতা’লারই সুন্নাহ তথা অনুশীলিত রীতি। কুরআন মজীদে মহান প্রভু তাঁর বিশেষ ও পছন্দকৃত বান্দাদের কথা উল্লেখ করেন এবং বহুবার মহানবী (দ:) তা তেলাওয়াত করেন। অতএব, এই দলিলের ভিত্তিতে মহানবী (দ:)-এর আশীর্বাদপূর্ণ বেলাদত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনার বিস্তারিত স্মৃতিচারণ আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূল (দ:)-এর অনুশীলিত রীতির আওতায় পড়ে।

আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বিবরণ উল্লেখ করা এতোই বড় নেয়ামতের উৎস যে, এর বাস্তবতা আমাদের সবার চোখের সামনে প্রকাশ্যে উপস্থিত। কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে পয়গম্বরবৃন্দ (আ:) ও তাঁদের উম্মতের কাহিনী বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় পয়গম্বরবৃন্দ (আ:) ও সৎকর্মশীলদের (মানে আউলিয়া কেরামের) স্মরণকে আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য করার দৃষ্টান্ত-ও পবিত্রগ্রন্থে বিরল নয়।

. আল্লাহতা’লা সূরা আল-আনআমে পয়গম্বরমণ্ডলী (আ:)-এর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে এরশাদ ফরমান: “আর ইসমাঈল, ইয়াসা’, ইয়ূনুস এবং লূতকেও; আর আমি প্রত্যেককে তাঁরই যুগের সবার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। এবং তাদের পিতৃপুরুষ, বংশধর এবং ভ্রাতৃবৃন্দের মধ্য থেকে কতেককেও; এবং আমি তাদেরকে মনোনীত করেছি ও সোজা পথ দেখিয়েছি।” [আল-ক্বুরআন, ৬:৮৬-৮৭, তাফসীরে নূরুল এরফান]

. কুরআন মজীদের ১৪তম অধ্যায়টির (সূরার) শিরোনাম আল্লাহতা’লার ঘনিষ্ঠ বন্ধু পয়গম্বর ইবরাহীম (আ:)-নামে করা হয়েছে। এই সূরায় তাঁর দুই ছেলে সর্ব-পয়গম্বর ইসমাঈল (আ:) ও ইসহাক্ব (আ:)-কে উল্লেখ করা হয়েছে এভাবে: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আমাকে আমার বার্ধক্যে ইসমাঈল ও ইসহাক্বকে দান করেছেন। নিশ্চয় আমার রব্ব প্রার্থনা শ্রবণকারী।” [আল-ক্বুরআন, ১৪:৩৯, প্রাগুক্ত নূরুল এরফান]

. সূরা মরিয়ম আল্লাহর আশীর্বাদধন্য বান্দাদের বিবরণ দ্বারা পরিপূর্ণ; এতে পয়গম্বর (আ:)-বৃন্দের স্মরণে কোনো ছেদ-ই পড়েনি। এই সূরা আল্লাহতা’লা আরম্ভ করেন পয়গম্বর যাকারিয়্যা (আ:)-এর দোয়া দ্বারা: “এটা হচ্ছে বিবরণ তোমার রব্বের ওই অনুগ্রহের, যা তিনি আপন বান্দা যাকারিয়্যার প্রতি করেছেন, যখন সে আপন রব্বকে নীরবে আহ্বান করেছিল।” [আল-ক্বুরআন, ১৯:২-৩]

. আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান: “এবং আমার কাছ থেকে দয়া ও পবিত্রতা; এবং (সে) পরিপূর্ণ খোদা-ভীতিসম্পন্ন ছিল।” [আল-ক্বুরআন, ১৯:১৩]

. আল্লাহতা’লা ঘোষণা করেন: “এবং কিতাবে মরিয়মকে স্মরণ করুন! যখন আপন পরিবারবর্গ থেকে পূর্বদিকে পৃথক একস্থানে চলে গিয়েছিল।” [আল-ক্বুরআন, ১৯:১৬]

. আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান: “এবং কিতাবে ইব্রাহীমকে স্মরণ করুন! নিশ্চয় সে ছিল অতীব সত্যবাদী, অদৃশ্যের সংবাদদাতা (নবী)।” [আল-কুরআন, ১৯:৪১]

. আল্লাহতা’লা বলেন: “এবং কিতাবের মধ্যে মূসা’কে স্মরণ করুন! নিশ্চয় সে মনোনীত ছিল এবং রাসূল ছিল, অদৃশ্যের সংবাদসমূহ বর্ণনাকারী।” [আল-কুরআন, ১৯:৫১]

. আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান: “এবং কিতাবের মধ্যে ইসমাঈলকে স্মরণ করুন! নিশ্চয় সে প্রতিশ্রুতি পালনে সত্যাশ্রয়ী ছিল এবং রাসূল ছিল, অদৃশ্যের সংবাদসমূহ বহনকারী; এবং আপন পরিবারবর্গকে নামায ও যাকাতের নির্দেশ দিতো; আর আপন রব্বের কাছে পছন্দনীয় ছিল।” [আল-কুরআন, ১৯:৫৪-৫৫]

. আল্লাহতা’লা ঘোষণা করেন: “এবং কিতাবের মধ্যে ইদরীসকে স্মরণ করুন! নিঃসন্দেহে সে অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ ছিল, অদেৃশ্যের সংবাদসমূহ বর্ণনাকারী। এবং আমি তাকে উচ্চ স্থানের ওপর উঠিয়ে নিয়েছি।” [আল-কুরআন, ১৯:৫৬-৫৭]

১০. অনুরূপভাবে, সূরা আম্বিয়া-ও পয়গম্বর (আ:)-মণ্ডলীর বিবরণ দ্বারা পরিপূর্ণ। পঞ্চাশ ও তৎপরবর্তী আয়াতগুলোতে হ্রাস না পাওয়া বিবরণ রয়েছে, যার শুরু হয়েছে নিম্নের কথা দ্বারা: “এবং এটা (ক্বুরআন) হচ্ছে কল্যাণময় উপদেশ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি। তবুও কি তোমরা সেটার অস্বীকারকারী হও?” [আল-ক্বুরঅান, ২১:৫০]

১১. ‘সবচেয়ে বরকতময় যিকর (স্মরণ)’ শিরোনামে নিম্নের আয়াতটি পয়গম্বর (আ:)-বৃন্দের পিতা হয়রত ইবরাহীম (আ:)-এর কথা উল্লেখ করেছে এভাবে: “আর নিশ্চয় আমি ইব্রাহীমকে পূর্ব থেকেই তার সৎপথ দান করেছি এবং আমি তার সম্বন্ধে পরিজ্ঞাত ছিলাম।” [আল-ক্বুরআন, ২১:৫১, প্রাগুক্ত নূরুল এরফান]

১২. বিস্তারিত একটি বিবরণের পরে সর্ব-পয়গম্বর লূত (আ:), ইসহাক্ব (আ:) ও এয়া’ক্বূব (আ:)-এর কথাও স্মরণ করা হয়েছে এতে। এর শেষ হয়েছে এই বলে: “এবং আমি তাদের সবাইকে আমার বিশেষ নৈকট্যের উপযোগী করেছি।” [আল-ক্বুরআন, ২১:৭২]

১৩. অতঃপর ওই সূরার ৭৩ নং আয়াতে উক্ত পয়গম্বর (আ:)-বৃন্দের মক্বাম তথা মর্যাদার আরো বিবরণ দেয়া হয়েছে: “এবং আমি তাদেরকে ‘ইমাম’ করেছি, যারা আমার নির্দেশে আহ্বান করে আর আমি তাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করেছি – সৎকর্ম পালন করতে, নামায প্রতিষ্ঠিত রাখতে এবং যাকাত প্রদান করতে; আর তারা আমার ইবাদত করতো।” [আল-ক্বুরআন, ২১:৭৩]

১৪. উক্ত সূরার ৭৬-৮৪ আয়াতগুলো সর্ব-পয়গম্বর নূহ (আ:), দা’উদ (আ:), সুলাইমান (আ:) ও আইয়ূব (আ:)-এর কথাও উল্লেখ করেছে। এই স্মরণের পরিসমাপ্তি হয় পয়গম্বর আইয়ূব (আ:)-এর উল্লেখ দ্বারা: “অতঃপর আমি তার (অর্থাৎ, আইয়ূব আলাইহিস্ সালামের) প্রার্থনা শুনেছি। তখন তার যে দুঃখ-কষ্ট ছিল, আমি তা দূরীভূত করেছি, এবং আমি তাকে তার পরিজনবর্গ ও তাদের সাথে তদসংখ্যক আরো দান করলাম; এটা আমার নিকট থেকে এক (বিশেষ) দয়া এবং ইবাদতকারীদের জন্যে (এতে নিহিত রয়েছে) উপদেশ (এই মর্মে যে আল্লাহ ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতাকে পুরস্কৃত করে থাকেন)।” [আল-কুরআন, ২১:৮৪]

১৫. এর পরবর্তী আয়াতে করীমাতেই সর্ব-পয়গম্বর ইসমাঈল (আ:), ইদরীস্ (আ:) ও যূল-কিফল (আ:)-এর কথা উল্লেখিত হয়েছে: “এবং ইসমাঈল, ইদরীস্ ও যূল-কিফলকে (স্মরণ করুন)। তারা সবাই ধৈর্যশীল ছিল। এবং তাদেরকে আমি আপন অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত করেছি। নিশ্চয় তারা আমার বিশেষ নৈকট্যের উপযোগীদের অন্তর্ভুক্ত।” [আল-কুরআন, ২১:৮৫-৮৬]

১৬. অতঃপর উক্ত সূরার ৮৭-৯০ আয়াতগুলোতে সর্ব-পয়গম্বর ইউনুস (যূননুন খেতাবে পরিচিত), যাকারিয়্যা ও ইয়াহইয়ার (সবার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক) উল্লেখ করা হয়েছে; এই যিকরের পরিসমাপ্তি ঘটেছে তাঁদের আধ্যাত্মিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে:“নিশ্চয় তারা সৎকর্মসমূহে ত্বরা করতো এবং আমাকে ডাকতো আশা ও ভীতির সাথে, আর আমার দরবারে বিনীতভাবে প্রার্থনা করতো।” [আল-ক্বুরআন, ২১:৯০]

১৭. আল্লাহতা’লা এরপর তাঁরই আশীর্বাদধন্য ও প্রিয় এসব বান্দার কথা স্মরণ করার উদ্দেশ্যটুকু ব্যাখ্যা করে এরশাদ ফরমান: “নিশ্চয় এ কুরআন যথেষ্ট এবাদতকারীদের জন্যে।” [আল-কুরআন, ২১:১০৬]

১৮. এই পুরো সূরাটি-ই আল্লাহর সম্মানিত বান্দাদের নিরবচ্ছিন্ন এক যিকর তথা স্মরণ, কিন্তু এর চূড়ান্ত পরিণতি ঘটেছে যখন শাহেনশাহ-এ-মাহবুবীন (প্রিয়বান্দাদের মহারাজ) ও বিশ্বজগতের জন্যে আল্লাহতা’লার পরম করুণা (রহমত) মহানবী (দ:)-এর কথা উল্লেখিত হয়েছে। আল্লাহতা’লার নেয়ামতপ্রাপ্ত বান্দাদের এই স্মরণের সমাপ্তি হয়েছে নিম্নের এই ভাষ্য দ্বারা: “আর আমি আপনাকে (হে রাসূল) সমগ্র জগতের জন্যে রহমতরূপেই প্রেরণ করেছি।” [আল-ক্বুরআন, ২১:১০৭]

১৯. এরপর আর কোনো পয়গম্বর (আ:)-এর ব্যাপারে উল্লেখ করা নেই, কেননা মহব্বতের এই স্মৃতিচারণ তার চূড়ান্ত পরিণতি পেয়েছে। মহানবী (দ:)-এর যিকর-তাযকেরা’র পরে অধ্যায়টির পরিসমাপ্তি ঘটেছে মহান আল্লাহতা’লার যিকর (স্মরণ) দিয়ে; এরশাদ হয়েছে: “নবী আরয করলেন, ‘হে আমার রব্ব! ন্যায় মীমাংসা করে দিন এবং আমাদের রব্ব রহমানেরই সাহায্য আবশ্যক ওইসব কথার ওপর, যা তোমরা বলছো।” [আল-ক্বুরআন, ২১:১১২, তাফসীরে নূরুল এরফান]

২০. সূরা সা’আদ-এ আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান: “এবং স্মরণ করুন ইসমাঈল, ইয়াসা ও যূল-কিফল’কে এবং (তারা) সবাই সজ্জন।” [আল-ক্বুরআন, ৩৮:৪৮]

এই পাঁচটি অধ্যায় হতে মাত্র কয়েকটি আয়াত-ই (এখানে) নির্বাচন করা হয়েছে; নতুবা আল্লাহতা’লা তাঁরই প্রিয় বান্দাদের কথা উল্লেখ করেছেন এমন উদ্ধৃতি কুরআন মজীদে ভরপুর। এসব উদ্ধৃত অংশে প্রিয় বান্দাদের আধ্যাত্মিক সাধনা ও প্রচেষ্টাকে স্মরণ করা হয়েছে; এই নেয়ামত-প্রাপ্ত (মানে আশীর্বাদধন্য) বান্দাদের উচ্চারিত দোয়া/প্রার্থনা-বাক্য ও সেগুলোর বর্ণনাপ্রসঙ্গ এবং ধরন সবই বর্ণিত হয়েছে। উপরন্তু, তাঁরা যে ঐশী অনুগ্রহ ও দান পেয়েছেন তার পাশাপাশি তাঁদের দৃঢ়তা ও শ্রেষ্ঠত্বের কথাও উল্লেখিত হয়েছে। সংক্ষেপে, তাঁদের জীবনের কোনো দিক-ই বাদ দেয়া হয়নি, আর প্রত্যেককে বারংবার স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে যে এসব যিকর-তাযকিরা শুধু তাঁদের জন্যেই সুনির্দিষ্ট, যাঁরা আল্লাহর এবাদত-বন্দেগী ও আনুগত্যে অটল, অবিচল।

কেউ আল্লাহতা’লার রেযামন্দি (সন্তুষ্টি) ও নৈকট্যলাভের মাধ্যম হিসেবে এবাদত-বন্দেগী ও আনুগত্যকে গ্রহণ করতে চাইলে এই যিকর-তাযকিরা’কে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষার উৎস হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। এই কারণেই মহান সাহাবাবৃন্দের (রা:) সময়কাল হতে অদ্যাবধি, প্রতিটি যুগেই, সৃষ্টিকুল শিরোমণি প্রিয়নবী (দ:)-এর পবিত্র জীবনবৃত্তান্তের যিকর-তাযকিরা ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য হয়েছে। ইমামমণ্ডলী, মুহাদ্দেসীন ও আল্লাহতা’লার সকল পুণ্যবান বন্ধু (আউলিয়া) নিজ নিজ প্রকৃতি অনুসারে মহানবী (দ:)-এর যিকর-তাযকেরায় সমাবেশের আয়োজন করেছেন; আর প্রতিটি যুগেই এই ঐশী প্রথা সম্পর্কে শত শত গ্রন্থ লেখা কিংবা সংকলন করা হয়েছে।

ক্বুরআন মজীদের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, পয়গম্বর (আ:)-বৃন্দের বেলাদত তথা ধরাধামে শুভাগমনের বর্ণনাগুলো স্বয়ং আল্লাহতা’লাই করেছেন। এক্ষেত্রে মওলিদের স্মরণ বা স্মৃতিচারণ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহতা’লারই সুন্নাহ (রীতি)।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •