মুসলিম প্রধান দেশে মুসলিমদের হালহকীকত

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

– ডক্টর আব্দুল বাতেন মিয়াজী
সকালে ঘুম ভেঙেছে, কিন্তু চোখ বন্ধ রেখে বিছানায় শুয়ে আছি। কেন জানি প্রথমেই মনে পড়লো ৭১ চ্যানেলে দেয়া মিতা হকের ইসলাম আর পর্দা
বিরোধী বক্তব্যগুলো। ওই মহিলার ইসলাম আর মুসলমানদের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ কথাগুলো আমার মনে এতটাই প্রভাব ফেলেছে যে ঘুম ভাংতেই সেগুলোর প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছিলাম। তার মতে বাঙালি হতে হলে মেয়েদের পর্দা করা যাবে না। কাঁধ, ভুরি, বাহু খোলা রেখে শাড়ি পরতে হবে। কপালে থাকতে হবে হিন্দুয়ানী টিপ। মাথায় স্কার্ফ বা কিছু রাখা হবে অবাঙালীর বৈশিষ্ট্য। শরীর পুরোপুরি ঢাকে এমন কোন পোশাক পরিধান মানেই বাঙালিত্ব পরিহার করা। অর্থাৎ পরপুরুষের মনোরঞ্জনে বাঁধা আসে এমন কিছু পরিধান করাই অবাঙ্গালিত্বের বৈশিষ্ট্য। অর্ধ নগ্ন, কামোদ্দীপক পোশাকেই নাকি পুরোপুরি বাঙালিত্ব ফুটে উঠে। পুরুষের বেলায়ও নাকি দাড়ি কাটা, পাঞ্জাবী বা শার্ট পরিধান বাঙালিত্বের অপরিহার্য ভূষণ। মহিলা ইসলামকে কটাক্ষ করে বেশ কিছু সস্তা আর অযৌক্তিক কথা বলল যা কোন রুচিবান মানুষের পক্ষে শোভনীয় হতে পারেনা। কিন্তু মঞ্চে উপবিষ্ট কিছু অর্বাচীন (মামুনুর রশীদ এবং আরো একজন) কিছুই বলল না। মনে হল, এরাও ভয় পেয়েছে, পাছে সত্য বলতে গিয়ে আবার নিজের বাঙালী পরিচয়টুকু জলাঞ্জলী দিতে হয় চোখ বন্ধ অবস্থাতেই ভাবছলাম, কেন এমন ধারণা একজন শিক্ষিত মহিলার? সে শুধু একা নয়। আমাদের বাংলাদেশের বেশির ভাগ উচ্চ শিক্ষিত আধুনিকমনা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এমন ধারণা পোষণ করেন। তাদের কাছে ইসলাম মানে সেকেলে, পিছিয়ে পরা, গতানুগতিক কিছু ব্যাপার। যা সর্বতোভাবে পরিহার্য। তাদের চোখে মুসলমান মানেই দাড়ি-টুপী ওয়ালা চরিত্রহীন, লম্পট, ঠক, দেশদ্রোহী কিছু মানুষ। মামুনুর রশীদ কিংবা আব্দুল্লাহ আল-মামুনের মতো কিছু লেখক-নাট্যকার স্বাধীনতা উত্তোর লেখনীতে এমনটিই ফুটিয়ে তুলেছেন।

কেন তারা এমনটি করেছেন? গ্রামের ধার্মিক মাতাব্বর মানেই কেন দাড়ি-টুপী ওয়ালা, পাঞ্জাবী-পরা একজন অমানুষ? এর কারণ হয়তো অনেকেই জানেন না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জামাত-ই-ইসলামী আর মুসলিম লীগের বিরোধিতা এবং এদের নানা অসামাজিক কার্যকলাপ, মানবতা বিবর্জিত কার্যক্রম, ইসলামের নামে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন মানুষের মননে ইসলাম এবং মুসলমান সম্পর্কে এক ধরণের লোমহর্ষক, নিষ্ঠুর, অমানবিক, লম্পট, অধার্মিক চিত্র এঁকে দিয়েছে। সর্বশেষ স্বাধীনতার মাত্র দুদিন পূর্বে বুদ্ধিজীবী-হত্যা মানুষের মনে চিরস্থায়ী ইসলাম-বিদ্বেষ রোপণ করেছে। এদেশের বেশির ভাগ উচ্চ শিক্ষিত মানুষ ইসলামকে জানে জামাত-ই-ইসলামীকে দেখে। উচ্চ শিক্ষিত মানুষদের খুব কমই কুরআন কিংবা হাদিস পড়ে বুঝতে পারে। মুক্তিযদ্ধকালীন জামাতের ভুমিকা এবং স্বাধীনতা পরবর্তী জামাতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি মানুষের মনে ইসলাম-বিদ্বেষ ভাবকে আরো পাকাপোক্ত ও প্রকট করে তোলে। ফলে জন্ম নেয় উচ্চ শিক্ষিত মুক্তমনা নাস্তিক গোষ্ঠী। একদিনে এদের এই মনোভাব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এর জন্য সুষ্ঠু এবং নিয়মতান্ত্রিক ভাবে কাজ করে যেতে হবে। জামাত, আহলে হাদিস কিংবা লা-মাজহাবীরা আর্থিক সাহায্য পেয়ে থাকে মধ্য প্রাচ্যের ওহাবী-প্রভাবিত দেশগুলো থেকে। তৈরি হচ্ছে জংগী, ইসলামের নামে সন্ত্রাস। কলঙ্কিত করা হচ্ছে ইসলামকে। আর সাধারণ মুসলমানের মুখে কালিমা লেপন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্বে রয়েছে আল-কায়েদা, তালিবান, আল-শাবাব, বুকো হারাম, নুসরা ফ্রন্ট, দায়েশ, ইসলামী খিলাফত, হিজবুল্লাহ, হামাসসহ বাংলাদেশের অসংখ্য জংগী সংগঠন যাদের তৈরিতে সরাসরি হাত রয়েছে সৌদি ওহাবী, পশ্চিমা ইহুদি আর খৃষ্টানদের। লক্ষ্য করুণ এদের সবার আক্বীদা হলো সৌদি ওহাবী আক্বীদা। তথা ইসলামকে বিনাশ করার সব নীলনক্সা। অপরদিকে সুন্নীদের সেরকম কোন দাতা নেই। ফলে সঠিক আক্বীদা আর সুন্নীয়ত প্রচার এবং প্রসারের পথ খুবই কণ্টকাকীর্ণ।

আমাদের প্রিয় বাংলাদেশে একদিকে রয়েছে ভুঁইফোঁড়ের মতো বুর্জোয়া ধর্ম-সন্ত্রাসী জামাত, সহীহ হাদিসের নামে ধর্মীয় ত্রাস আহলে হাদিস কিংবা লা-মাজহাবী, অন্য দিকে রয়েছে আধুনিক শিক্ষা বিবর্জিত কওমী তথা খারেজী গোষ্ঠী। এদের বিপরীতে রয়েছে উচ্চ শিক্ষিত নাস্তিক গোষ্ঠী। আর এ সকল গোষ্ঠীর উল্টোদিকে অবস্থানে আছে আহলে হক্ক বা সঠিক পথের দিশারী নবী-ওলী-সলফে সালেহীনদের পদাংক অনুসরণকারী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত। কিন্তু সঠিক এই দলটির অবস্থান এতই নড়বড়ে যে উপরের বর্ণিত কোন পক্ষেরই ধাক্কাই সামলানোর মতো কোন অর্থবল, লোকবল, কৌশল এদের নেই। তবে এদের রয়েছে জ্ঞানের ভাণ্ডার আর ঈমানী জজবা। এদের রয়েছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অগাদ ভালোবাসা। রয়েছে সলফে সালেহীন, ইমাম, মুজতাহীদ, মুফাসসসীর, মুহাদ্দীসীনে কেরাম এবং আল্লাহর ওলীগণের প্রতি ভালোবাসা এবং অকুণ্ঠ ভক্তি-শ্রদ্ধা। এই হুসাইনী সৈনিকদের রাসুল (দঃ) এর প্রেমের পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, জ্ঞান চর্চা, সঠিক কর্মপন্থা এবং কৌশল। ইনশা আল্লাহ ধীরে ধীরে সেসব বর্ণনা করা হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সত্য ও সঠিক আক্বীদা বোঝার ও এর উপর স্থির থাকার তৌফিক দান করুণ। আমীন!

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Comment