প্রসংগ মীলাদুন্নাবী ﷺ উৎযাপন

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

ইসলামের প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানই কোনো না কোনো নবী-রাসূলের স্মৃতি, ঈদে মীলাদুন্নাবীও এর ব্যতিক্রম নয়।

– ডক্টর আব্দুল বাতেন মিয়াজী

নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি ‘আলা রাসূলিহিল কারীম, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম।
আল্লাহ্‌ পাক ﷻ তাঁর বিশেষ বান্দাগণের কিছু কিছু কাজকে এতই পছন্দ করেছেন যে তা উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। বলা যায় ইসলামের বেশির ভাগ এবাদত এবং উৎসবই পূর্ববর্তী কোনো না কোনো নবী-রাসূল (আলাইহিমুস সালাম)-গণের এবং আল্লাহর প্রিয় এবং বিশেষ বান্দাগণের (আল্লাহ্‌ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট থাকুন) কর্ম কিংবা এবাদত। আমরা যেসব আমল, এবাদত, উৎসব ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পালন করে থাকি, তা আসলে সেইসব বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিবর্গের কৃত কর্ম কিংবা স্মৃতি। নামাজ, রোজা, হজ্ব ও যাকাত এর অন্যতম। মীলাদুন্নাবী উদযাপনও এরই ধারাবাহিকতার অংশ বিশেষ। অজ্ঞতার কারণে কেউ কেউ ঈদে মীলাদুন্নাবীর মতো এমন মর্যাদাপূর্ণ উৎসবকে বিদ’আত কিংবা শিরক পর্যন্ত বলে থাকে। নিচের আলোচনায় প্রমাণিত হবে, পূর্ববর্তীদের স্মৃতির স্মরণ আল্লাহ্‌ পাক আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন এবং তা ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ করা ছাড়াও অনেক অনেক ফযিলত ও মর্যাদাপূর্ণ করে দিয়েছেন। সুবহানআল্লাহ!

পবিত্র জুমার দিন

প্রথমেই আসি জুমার আলোচনায়। মুসলমানদের জন্য জুমা একটি বিশেষ দিন। ধনী-গরীব নির্বিশেষে সমস্ত উম্মতের জন্য এ দিনটি ঈদের দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুমিনের জন্য জুম’আর দিন হল সাপ্তাহিক ঈদের দিন।”-[ইবনে মাজাহ;১০৯৮] এদিনে জোহরের চার রাকাত ফরজের পরিবর্তে আমরা মাত্র দু’রাকাত জুমার নামায আদায় করে থাকি। নামায বেশি পড়লে বেশি সাওয়াব, কিন্তু আল্লাহ্‌ পাক তাঁর এক বিশেষ বন্ধুর স্মৃতির কারণে এ দিনে চার রাকাতের পরিবর্তে মাত্র দু’রাকাত নামায আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যান্য দিনের চার রাকাতের চেয়ে জুমার দু’রাকাত নামায অনেক বেশি মর্যাদার। তিনি আমাদের পূর্বে ইহুদী এবং খৃষ্টানদেরকে এ বিশেষ দিনটি পালনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তারা তাদের অহমিকাবশত তা প্রত্যাহার করে এবং এর পরিবর্তে শনি ও রবিবারকে বেছে নেয়। অবশেষে আল্লাহ্‌ পাক বিশেষ করুণাবশত এই বিশেষ দিনটি উম্মতে মুহাম্মদীকে দান করেন। এ দিনটি নিয়ে অসংখ্য হাদিস রয়েছে। এ দিনে এবং এ দিনের উছীলায় এর পূর্ববর্তী রাতে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরণকারীকে পর্যন্ত আল্লাহ্‌ পাক কবরের আজাব থেকে রেহাই দিবেন বলে ওয়াদা করেছেন।

কিন্তু আমরা কি জানি কেন এ দিনের এমন বিশেষ ফযিলত? এ দিনে আল্লাহ্‌ পাক প্রথম মানব হযরত আদম আলাইহিস সালামকে তৈরি করেছেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন শুক্রবার। এদিনেই আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এদিনেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন, এদিনেই সিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, এদিনেই কিয়ামত হবে। কাজেই এই দিনে তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করবে, কারণ তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হবে”। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, “আপনি তো (কবরে মাটিতে) বিলুপ্ত হয়ে যাবেন, কিভাবে তখন আমাদের দরূদ আপনার নিকট পেশ করা হবে?” তিনি বললেনঃ “মহান আল্লাহ মাটির জন্য নবীগণের দেহ ভক্ষণ নিষিদ্ধ করেছেন”।

(সুনানুন নাসাঈ ৩/৯১, নং ১৩৭৪)

নামায

নামায মুমিন এবং কাফেরের মধ্যে পার্থক্য বিধানকারী একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবাদত। এটি এমন একটি এবাদত যা প্রতিদিন করতে হয়। রোজা বছরে একবার এবং একমাস পালন করতে হয়, হজ্ব জীবনে একবার করা ফরজ, যাকাত বছরে একবার দিতে হয়। কিন্তু নামায প্রতিদিন আদায় করতে হয়, দিনে পাঁচবার। শাইখুল ইসলাম আল্লামা ডঃ তাহিরুল কাদরী মাঃ জিঃ আঃ’র একটি বয়ানে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

আল্লাহ্‌ পাক নিজে যেমন খুব রহস্যময়, তিনি তেমনি রহস্য পছন্দও করেন। প্রতি ওয়াক্ত নামাযের পেছনে রয়েছে একেকজন নবীর এবাদত এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের স্মৃতি।

হযরত আদম আলাইহিস সালাম বেহেশত থেকে পৃথিবীতে আগমনের পর, দীর্ঘ সাড়ে তিনশ কিংবা চারশ বছর অতিবাহিত করেন। এ সময়ে আমাদের আদি মাতা হাওয়া আলাইহাস সালাম এবং আদি পিতা আদম আলাইহিস সালাম, দুজন দু স্থানে ছিলেন। বাবা আদম শ্রীলংকায় আর মা হাওয়া আরবের জেদ্দায় অবস্থান করতেন। দীর্ঘ সময় পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লামের উছীলায় তাঁদের পুনরায় মিলন হয়, আজকের আরাফা নামক স্থানে। জাবালে রহমতের চূড়ায় তাঁদের দোয়া আল্লাহ্‌ পাক কবুল করলে আল্লাহ্‌ পাকের শুকরিয়া আদায়ের নিমিত্তে আদম আলাইহিস সালাম দু’রাকাত নামায আদায় করেন [আত-তাহাবী, শরহে মা’আনী আল আছার, ভল্যুম ১, পৃষ্ঠা ১৭৫]। আল্লাহ্‌ পাকের কাছে এ দু’রাকাত নামায এতই পছন্দনীয় হলো যে, তিনি বলেন, তোমার এ দু’রাকাত নামায আমার কাছে এতই ভালো লেগেছে যে আমি তা উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য বাধ্যতামূলক করে দেবো। তাঁরা কিয়ামত পর্যন্ত এ দু’রাকাত নামায পড়বে।

জোহরের চার রাকাত ফরজ হযরত নূহ আলাইহিস সালামের এবাদত। আল্লাহ্‌ পাকের দেয়া ঝড়-তুফান এবং বন্যা থেকে সহীহ সালামতে জুদ পাহাড়ে অবতরণের পর তিনি আল্লাহ্‌ পাকের শুকরিয়া আদায় করার জন্য চার রাকাত নামায আদায় করেন। আর সে সময়টি ছিল জোহরের সময় [আত-তাহাবী, শরহে মা’আনী আল আছার, ভল্যুম ১, পৃষ্ঠা ১৭৫]। আল্লাহ্‌ পাকের কাছে সে চার রাকাত নামাযও খুব পছন্দনীয় হয়। যাতে মানুষ কিয়ামত পর্যন্ত নূহ আলাইহিস সালামের সেই ধন্যবাদ জ্ঞাপন উৎযাপন করতে পারে সেজন্য তিনি তা উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য ফরয করে দেন।

আছরের চার রাকাত হযরত ইব্রাহীম এবং হযরত ইসমাইল আলাইহিমাস সালামের সুন্নত। আল্লাহ্‌ পাকের নির্দেশে ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম যখন পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামকে কুরবানি করার জন্য মীনায় নিয়ে যান, প্রফুল্ল চিত্তে পু্ত্রও তাতে রাজি হয়ে যাওয়ায় আল্লাহ্‌ পাক বেহেশত থেকে একটি দুম্বা পাঠিয়ে দেন। দুম্বা কুরবানি হয়ে গেলে পিতা এবং পুত্র এ দৃশ্য দেখে আল্লাহ্‌ পাকের কাছে শুকরিয়া আদায়ের নিমিত্তে চার রাকাত নামায আদায় করেন [আত-তাহাবী, শরহে মা’আনী আল আছার, ভল্যুম ১, পৃষ্ঠা ১৭৫]। তখন ছিল আসরের সময়। আল্লাহ্‌ পাকের কাছে পিতা ও পুত্রের সে আত্মত্যাগ এতই পছন্দ হয়েছে যে তিনি তাঁদের স্মরণে কুরবানিকে কিয়ামত পর্যন্ত উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য ওয়াজিব করে দেন এবং তাঁদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের এবাদতকেও ফরজ করে দেন।

মাগরেব তিন রাকাত। এই বেজোড় সংখ্যার রাকাত কোত্থেকে এলো? দু’রাকাতও নয়, চার রাকাতও নয়। তিন রাকাতের এ রহস্য হলো হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালামের সুন্নত এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের এবাদত। তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর কিংবা ২৪ বছর অসুস্থ ছিলেন। আল্লাহ্‌ পাকের কাছে আর্জি পেশ করার পর আল্লাহ্‌ পাক তাঁর এই আর্জি মনজুর করেন। পাশেই একটি কূপ সৃষ্টি হয় এবং হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম তাতে গোসল করলে তিনি পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেন। তখন ছিল মাগরেবের সময়। স্ত্রী রাহীমা তখন খাদ্য সংগ্রহের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন। ফলে ফিরে এসে সুস্থ স্বামীকে দেখে তিনি চিনতে পারেন নি। আইয়ুব আলাইহিস সালাম আল্লাহ্‌ পাকের কাছে শুকরিয়া আদায়ের জন্য চার রাকাত নামায আদায়ের নিয়ত করেন। তিনি আকৃতিতে ছিলেন অনেক বিশাল। তিন রাকাত পড়ার পর খুব দুর্বল বোধ করেন। তিন রাকাত আদায় করেই সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেন [আত-তাহাবী, শরহে মা’আনী আল আছার, ভল্যুম ১, পৃষ্ঠা ১৭৫]। আল্লাহ্‌ পাকের কাছে এ তিন রাকাতের বেজোড় সংখ্যা এতই পছন্দনীয় হল যে তিনি তা উম্মতে মুহাম্মদীর মাধ্যমে কিয়ামত পর্যন্ত স্মরণীয় করে রাখলেন।

সর্বশেষ এশার চার রাকাত হলো আমাদের প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লামের সুন্নাত। এভাবে আমরা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে পাঁচ জন নবী (আলাইহিমুস সালাম) এর সুন্নত এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপনের উৎসব পালন করে থাকি। ইসলামের প্রতিটি এবাদত ও উৎসবই আসলে কোন না কোন নবী-রাসূলের সুন্নত এবং রীতি।

হজ্ব

হজ্ব ইসলামের এমন একটি স্তম্ভ যার প্রায় সবগুলো রীতি, নিয়ম, ফরজ, ওয়াজিব, আহকাম-আরকান পূর্ববর্তী নবী, রাসূল কিংবা আল্লাহ্‌ পাকের প্রিয় বিশেষ বান্দাগণের কর্ম এবং বিশেষ মুহূর্তের কিছু স্মৃতি মাত্র। পবিত্র কা’বাঘর হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম এবং ইসমাইল আলাইহিস সালাম কর্তৃক তৈরি একটি ঘর। এর পূর্বে আদম আলাইহিস সালাম তা তৈরি করেছিলেন। এই ঘরটি আল্লাহ্‌ পাকের পছন্দ হওয়ায় একে নিজের ঘর হিসেবে কবুল করেছেন। এ ঘরের চারপাশে সাতবার তাওয়াফ করা উক্ত দু’জন সম্মানিত নবীর সুন্নত। কিন্তু হজ্ব এবং ওমরাহ্‌র রোকন হিসেবে তা করা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। এ সময় দোয়া পাঠ করা উত্তম, তবে বাধ্যতামূলক নয়। কোন দোয়া না পড়লেও তাওয়াফ হয়ে যাবে।

৯ই জিলহজ্ব আরাফার দিনে মহিমান্বিত কা’বাঘরের পাশে থাকার চেয়ে আরাফার ময়দানে উপস্থিত হওয়া বাধ্যতামূলক। সেখানে কোন দোয়া না পড়লেও হজ্বের ফরজ আদায় হয়ে যাবে। তবে উক্ত পবিত্র স্থানকে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহী ওয়াসাল্লাম জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড় বলে অভিহিত করেছেন, কাজেই সেখানে দোয়া পাঠ অতি উত্তম এবং সে স্থানটি দোয়া কবুল হবার একটি স্থান। উক্ত স্থানটি আরাফার ময়দান এবং রহমতের পাহাড় হবার কারণ হলো আমাদের আদি পিতা এবং আদি মাতা দীর্ঘ সাড়ে তিনশত কিংবা চারশত বছর একে অপরকে খুঁজে খুঁজে আল্লাহ্‌ পাকের কাছে কায়মোনাবাক্যে ফরিয়াদ করেছেন। অবশেষে এই স্থানে এই দিনে তাঁদের পুনরায় সাক্ষাৎ হয়। এই সাক্ষাৎটি আল্লাহ্‌ পাকের কাছে এতই প্রিয় মনে হয়েছে যে, তিনি তার স্মৃতি চিরিদিন অম্লান করে রাখার জন্যে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্যে তা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। যা কিয়ামত পর্যন্ত এভাবে উতযাপিত হতেই থাকবে।

আরাফা থেকে ফেরার পথে মুজদালিফায় এসে রাত্রি যাপন করতে হয়। কারণ এখানেই আমাদের আদি মাতাপিতা পুনরায় সাক্ষাতের পর প্রথম বাসর যাপন করেছিলেন। খোলা আকাশের নিচে তাই উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য রাত্রি যাপন করা কিয়ামত পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে। এটি হজ্বের ওয়াজিব। এই স্থানে রাত্রি যাপন কেবল ওয়াজিবই নয়, এখানে রাত্রি যাপনের ফযিলত সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহীওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, মুজদালিফায় রাত্রি যাপনকারীকে আল্লাহ রহমতের চাদরে ঢেকে নেন। বান্দা হাত তুলে আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহ তার পিছনের সব গুনাহ মাফ করে দেন। সুবহানআল্লাহ!

আরাফা দিবসের পরদিন মীনায় কুরবানি করা ওয়াজিব। ওইদিন এবং এর পরের তিনদিন কুরবানি না করে এর আগের দিন কিংবা বছরের অন্যদিনে কুরবানি দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। আল্লাহ্‌ পাক তাঁর প্রিয় খলিল আলাইহিস সালামকে স্বপ্নে তাঁর প্রিয় জিনিস কুরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর খলিল তা বাস্তবায়ন করে আল্লাহ্‌র ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছেন। পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামও নিজেকে ধৈর্য্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আল্লাহ্‌ পাকের কাছে কেবল গ্রহণীয়ই হয়নি, তাঁর নৈকট্যের একটি মাধ্যম হিসেবে তাকে কবুল করেছেন। এবং উম্মতে মুহাম্মদীর উপর তা ওয়াজিব করে দিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত তা প্রচলিত করে দিয়ছেন। এরপর জামারায় শয়তানকে পাথর মারার মাধ্যমে সেসব পুণ্যময় স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছেন।

হজ্ব ও ওমরাহ্‌র রোকনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কা’বাঘরের সামান্য পূর্বপাশে অবস্থিত সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সায়ী করা বা দৌড়ানো। আল্লাহু আকবার! এই আমল এতই মর্যাদাবান যে আল্লাহ্‌ পাক তা করার তাগিদ দিয়ে আয়াত নাজিল করেছেন। শিশুপুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালাম পানির পিপাসায় ছটফট করছেন। অসহায় মা হাজেরা আলাইহাস সালাম শিশুপুত্রের জন্য পানির সন্ধানে এখানে সেখানে দৌড়াচ্ছেন। একবার সাফা পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করে এদিক সেদিক তাকিয়ে পানি কিংবা কোন জনমানবের সন্ধান করছেন। পরক্ষণেই আবার অস্থির হয়ে মারওয়া পাহাড়ের দিকে ছুটে গিয়েছেন। বর্তমানে মাঝখানের সবুজ পিলারের কাছে গিয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দ্রুত দৌড়ে পাহাড়ের চূড়ায় গিয়েছেন। সন্তানের জন্য মায়ের এমন আকুতি এবং করুণা মিশ্রিত অস্থিরতা এবং দৌড়াদৌড়ি আল্লাহ্‌ পাকের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। প্রতিদান স্বরূপ তিনি দান করলেন জমজম যা কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র আদমসন্তানের জন্য অতুলনীয় এক নিয়ামত হিসেবে পরিগণিত হয়ে আছে। দুনিয়ার অন্য কোনো পানি এমন সুস্বাদু, পুষ্টিকর, ক্ষুধা নিবারণকারী, বরকতময় নয়। যে সন্তানের জন্য পানি আনতে মা হাজেরা এদিক সেদিক দৌড়াদৌড়ি করেছেন, ফিরে এসে দেখেন সে সন্তানের পায়ের নিচ থেকেই সুমিষ্ট পানি বয়ে চলেছে। তিনি পানিকে আটকে রাখার জন্য চারপাশে বাঁধ দিতে লাগলেন, আর মুখে বললেন, জাম জাম মানে থামো থামো। সে পানির নাম হয়ে গেল জমজম। পৃথিবীর অন্য কোনো পানিতে পেট ভরে না, কিন্তু জমজমে ক্ষুধা নিবারণ হয়। অন্য পানি বেশি পান করলে পেশাবের বেগ হয়, কিন্তু জমজম যতই পান করা হোক না কেন, পেশাব কিংবা পায়খানার বেগ হয় না। আল্লাহ্‌ পাকের প্রিয় বান্দাদের উছীলায় প্রাপ্ত বস্তুতে এমনই নিয়ামত নিহিত রয়েছে!

এরূপ ভাবে পূর্বেকার নবী-রাসূল এবং আল্লাহর বিশেষ বান্দাগণের স্মৃতি, এবাদত এবং দৌড়ের মতো বিষয়ও আমাদের জন্য বরকতময় এবং এবাদত হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। কাজেই যারা ইমামুল মুরসালীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন, শাফিউল মুজনেবীন, জীন ও মানব জাতির সর্দার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াআলিহীওয়াসাল্লামের পবিত্র বেলাদত শরীফের মুহূর্তকে উৎযাপন করতে অনীহা প্রকাশ করে এবং একে অন্য সাধারণ বিষয়ের মতো মনে করে বিদ’আত ও শিরক মনে করে তারা অজ্ঞতার শিখরে রয়েছে।
ইনশাআল্লাহ, আগামী পর্বে ঈদে মীলাদুন্নাবী উৎযাপনের দলীল উপস্থাপন করবো। এই উৎসব মহান রাব্বুল আলামীনের সুন্নত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তা পালন করেছেন এবং সাহাবাগণও নিজেরা তা উৎযাপন করেছেন। কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে দলীল পেশ করা হবে। সাথেই থাকুন।


পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Comment