প্রকৃত শিরককারী কে? – ডঃ আব্দুল বাতেন মিয়াজী

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

ইদানিং কিছু লোক বুঝে বা না বুঝে কবর জিয়ারতকারী বা যারা কবর জিয়ারতকে সমর্থন করেন তাঁদেরকে কবরপূজারী বা মাজার পূজারী বলে গালি দিয়ে থাকে। কিন্তু তারা কি জানে এতে তারা নিজেরাই শিরক করে তাদের ঈমান ও আমল দুই-ই হারাচ্ছে? তাহলে বিস্তারিত পড়ুন।   বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী নানা বস্তুর পূজা করে। অর্থাৎ, তারা এগুলোকে দেবতা বা খোদা মনে করে। এ সব জাতি-গোষ্ঠীর অসংখ্য দেবতা রয়েছে, আর তাদের ধর্মবিশ্বাস মতে এরা সবাই এক খোদার-ই বিভিন্ন রূপ।

পূজা করা হয় কার?
যার পুজা করা হয় তাকে পুজাকারীর মা’বুদ ধরে নেয়া হয়। হিন্দুরা মুর্তি পুজা দ্বারা মূর্তিগুলোকে তাদের মা’বুদ মনে করে থাকে। কবর জিয়ারতকারী কোনো ব্যক্তি কি কবরের ব্যক্তিকে নিজের মা’বুদ মনে করে? উত্তর: না। তাহলে যারা তাঁদেরকে কবর পূজারী বলে গালি দিচ্ছে, তারা কবরের ব্যক্তিকে জিয়ারতকারীর মা’বুদ মনে করছে। এ রকম মনে করে তারা নিজেরাই শিরকে পতিত হল। নিচে দেখুন সহীহ হাদিস:

পুজা আর শ্রদ্ধা প্রদর্শন কি এক জিনিস?
ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন সৌদি বাদশাহ আব্দুল্লাহ রওজা মুবারক জিয়ারতের পর হাত তুলে মোনাজাত করছেন (এই ছবি ওপরের ফেসবুক আইডি-তে সংরক্ষিত)। তিনি কি কবরপুজা করছেন? ওহাবী, সালাফী, লা-মাজহাবী, আহলে হাদীস, দেওবন্দিদের মতে কবর জিয়ারত হল কবর পুজা। পীরের কাছে যাওয়াকে তারা পীর পুজা মনে করে থাকে। তাহলে তাদের যুক্তি অনুযায়ী তাদের নেতাই কবর পুজা করছেন।

আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে মাকামে ইব্রাহীমকে সম্মান প্রদর্শন করতে বলেছেন। সাফা-মারওয়ায় সায়ী করতে বলেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদকে চুমু দিয়েছেন। প্রতিটি মুসলমানের আকাঙ্ক্ষা সেই কালো পাথরে চুমু দেয়া। এমনকি পবিত্র ক্বাবা ঘরও একটি পাথরের ঘর। আমরা মুসলমানগণ এই ঘরকে কিবলা মনে করে এর দিকে ফিরে সিজদা করি, এবাদত করি, এর চারপাশে তাওয়াফ করি। ক্বাবা আমাদের কেন্দ্রবিন্দু। মুসলমানের জন্য সবচে সম্মানের এই ঘর। আমরা কি এই ঘরের পুজা করছি, নাকি মহান আল্লাহর এবাদত করছি? মাকামে ইব্রাহীম, হাজরে আসওয়াদ কিংবা সাফা-মারওয়ায় সায়ী কি এসবের পুজা করা, নাকি আগেকার নবী-রাসুল আলাইহিমুস সালাম এবং আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের স্মৃতিকে সম্মান প্রদর্শন করা? ওহাবীরা এর কি উত্তর দেবে?

মুসলমান কি কবর পুজা করে?
কবর জিয়ারত সুন্নাত। কোনো মুসলমান কবরের পাশে গিয়ে কবরবাসীকে নিজের মা’বুদ মনে করে না। বরং ওহাবীরাই এ রকম মনে করে থাকে। তারা বারবার তাদের বিভিন্ন কথায় এ রকম বলে থাকে।

ওহাবীরা নিজেরাই শিরককারী
সহীহ হাদিস অনুসারে ওহাবীরা নিজেরাই শিরক আর বিদআতে পতিত। দেখুন সহীহ হাদিস দ্বারা দলীল:

ইবনে ইয়ালা (রা) হযরত হুজাইফা (রা) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, রাসুল (সা) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের মধ্য থেকে এমন মানুষের আশংকা করি, যে এতো বেশি বেশি কুরআন পড়বে যে তার চেহারা উজ্জ্বল হবে, আর ইসলামকে সে নিজের করে নিবে। আল্লাহ যতোক্ষণ চান এ রকম থাকবে। তারপর আল্লাহ তার থেকে তা উঠিয়ে নেবেন, যখন সে কুরআনকে পাশে রেখে দেবে আর তলোয়ার নিয়ে তার প্রতিবেশীকে শিরকের অভিযোগে আক্রমণ করতে যাবে।’ নবী (দ:)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, তাদের দু’জনের মধ্যে কে শিরকের দোষে দুষ্ট? তিনি বললেন, ‘অভিযোগকারী’।

আলবানি এই হাদিসটিকে সহিহ বলেছে। (তাহকিক নাসির আলবানি, ভলিউম ০০১, হাদিস নং ৮১ [সিলসিলাত আল-আহাদিস আল-সাহিহাহ – আলবানি ভলিউম ০০৭ –এ, পৃষ্ঠা ৬০৫ হাদিস নং ৩২০১] সহীহ ইবনে হিব্বান, ১ খণ্ড, ২৮২ পৃষ্ঠা)

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Comment