হে আল্লাহ আমরা মানুষ হতে চাই!

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

হে আল্লাহ আমরা মানুষ হতে চাই!
হে আল্লাহ! তুমি সমস্ত জগতের মালিক। তোমার হাতেই সমস্ত ক্ষমতা। তুমি সব কিছুই করতে পারো। তুমি ধনীকে গরীব করতে পারো, গরীবকে ধনী। তুমি যাকে ইচ্ছে রাজ্য দান করো, যার কাছে থেকে ইচ্ছে রাজ্য ছিনিয়ে নাও। যাকে ইচ্ছে সম্মানিত করো আর যাকে ইচ্ছে অপমানিত করো। তোমার ইচ্ছাতেই সব কিছু আবর্তিত হয়। তুমি নিজেই বলেছ, তুমি কোন কিছুই ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করোনি। আমাদেরকে তুমি মানুষরূপে তৈরি করেছ, নিশ্চয়ই এর পিছনে তোমার কোন উদ্দেশ্য রয়েছে। তবে আমরা মানুষরূপী হলেও এখনো মানুষ হয়ে উঠতে পারিনি। আমাদের মাঝে বাস করে একেকটি পশু। যে সময় এবং সুযোগ পেলেই মাথা উঁচু করে আমাদেরকে বিপথে তাড়িয়ে বেড়ায়।

হে রাব্বুল আলামীন, হে বিশ্ব প্রতিপালক! আমরা মানুষ হতে চাই। আমাদেরকে তুমি সব কিছুর আগে মানুষ হতে সাহায্য করো। আজ পবিত্র লাইলাতুল ক্বদর! এই মহিমান্বিত মুহূর্তে, তুমি আমাদের অন্তরকে কলুষমুক্ত করে দাও। আমাদের হাতে যেন আর কোন শিশু, কোন নারী, কোন বৃদ্ধ, কোন অসহায় মানুষ নির্যাতিত, নিষ্পেষিত, অত্যাচারিত, নিগৃহীত না হয়। আমাদের দ্বারা যেন আর কারো কোন ক্ষতি না হয়। কেউ যেন আমাদের কারণে কষ্টে, দুঃখে, বিপদে পতিত না হয়। আমরা যেন কারো কষ্টের কারণ না হই। কেউ যেন আমাদের কষ্টের কারণ না হয়। সবাই আমরা তোমার বান্দা, তোমার সৃষ্টি! তোমার বিশাল পৃথিবীতে সবাই যেন একটু প্রশান্তির ছোঁয়া নিয়ে বাঁচতে পারি। তুমি ছালাম। তুমিই শান্তি। তুমিই পারো আমাদের অন্তরে প্রশান্তি এনে দিতে, তুমিই পারো আমাদের মনের সব কলুষতা দূর করে একে অপরের জন্যে সহানুভুতি, সহমর্মিতা, সহযোগিতা তৈরি করে দিতে। আমাদের মাঝে হানাহানি আর বিদ্বেষ তুমি দূর করে দাও। তুমি বাছিত। তুমি সবকিছু প্রশস্তকারী। তুমিই পারো আমাদের মনকে প্রশস্ত করে দিতে।

হে আল্লাহ! তুমি এই বিশেষ মহিমান্বিত রাতের উছিলায় আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও। আমরা জেনে, না জেনে, ইচ্ছেয়, অনিচ্ছেয়, প্রকাশ্যে, অপ্রকাশ্যে কতো নাফরমানী করে থাকি। আমরা প্রতি নিয়ত ভুল করে থাকি। তুমি আমাদেরকে সুন্দরতম আকৃতিতে তৈরি করেও, তুমি নিজেই আমাদেরকে “দুর্বল” করে পাঠিয়েছ। তুমি ফেরেশতা তৈরি করেছো রিপু-বিহীন। ফলে সে কেবল তোমার আদেশই পালন করে। তাঁদের নিজেদের কোন ইচ্ছেয় তারা চলে না। তুমি পশুকে তৈরি করেছো, বিবেকহীন হিসেবে। তারা যা করে তার পিছনে এদের কোন চিন্তা-চেতনা, বিবেক, বুদ্ধির প্রভাব থাকে না। তুমি মানুষকে ফেরেশতার আক্বল আর পশুর রিপুর সমন্বয়ে তৈরি করেছো। আমাদের যেমন বিবেক দিয়েছ, সাথে দিয়েছ কু-প্রবৃত্তি। কেবল কু-প্রবৃত্তি দিয়েই তুমি ক্ষান্ত হওনি, আমাদের জন্মের মুহূর্ত থেকেই তুমি আমাদের সাথে একজন করে শয়তান জীন পাঠিয়ে দাও। যার কাজই থাকে আমাদেরকে সর্বক্ষণ কু-মন্ত্রণা দেয়া। তোমার নিষ্পাপ ফেরেশতারা কু-প্রবৃত্তির কাছে এক মুহূর্তও টিকতে পারেনি। আমরা দুর্বলতম প্রাণী হয়ে কিভাবে এতো প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে তোমার নির্দেশিত পথে অটল থাকবো? অন্যায় করাই আমাদের জন্য সহজ। ভুল করাই আমাদের স্বভাব। তুমি গাফফার। তুমি গাফুরুর রাহীম। দয়াময় ক্ষমাশীল। তুমি ক্ষমাকে পছন্দ কর। সুতরাং তুমি আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও।

তুমি ঘোষণা করেছো, তোমার নৈকট্য লাভের জন্য “উছিলা” খুঁজতে। আমাদের এমন কোন পুণ্য নেই যে আমরা সেই পুণ্যের দোহাই দিয়ে তোমার কাছে করজোড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করবো। তোমার প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তোমার প্রিয় বান্দাগণ, তোমার বন্ধুগণ (সবার উপর তুমি সন্তুষ্ট থাকো) আমাদের “উছিলা”। তাঁদের উছিলা ধরে আর তোমার মহিমাময় নামসমূহের উছিলা ধরে তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তুমি আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও। তোমার ক্ষোভ আর ক্রোধের কাছে তোমার দয়া সবসময় বিজয় লাভ করে। তুমিই আমাদেরকে বলে দিয়েছ, আমরা যেন তোমার রহমত থেকে বঞ্চিত না হই। তুমি দয়াময়! তুমি রহমান, তুমি রহীম! তোমার দয়ার কাছে অন্য সবকিছু তুচ্ছ। তোমার সেই নামের দোহাই দিয়ে তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও। তুমি আমাদের মা-বাবা, দাদা-দাদি, নানা-নানী, আত্মীয়-পরিজন সবাইকে আজ ক্ষমা করে দাও। আমাদের যাদের মা-বাবা আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেছে, তাঁদের জিম্মাদার তুমিই হয়ে যাও। তুমি তাঁদেরকে সেভাবে রহম করো যেভাবে শিশুকালে তাঁরা আমাদেরকে লালন-পালন করেছেন। তাঁদের কবরকে তুমি জান্নাতের বাগিচা বানিয়ে দাও। কাল হাশরে তুমি তাঁদেরকে তোমার দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিজ হাত হতে হাউজে কাউসার নসীব করো, নবীর শাফাআয়াত কবুল করো। তাঁদেরকে তুমি বিনা হিসেবে বেহেশত নসীব করো। আমাদের সন্তানসন্ততিকে তুমি কবুল করো। তাদেরকে তুমি সত্য ও সঠিক পথের উপর স্থির রেখো। আমাদেরকে তুমি সঠিক আক্বীদার উপর প্রতিষ্ঠিত রেখো। কখনো এক মুহূর্তের  জন্যে হলেও ভ্রান্ত আক্বীদায় বিচ্চুত করোনা। এই ফেত্নার যুগে চতুর্পাশে কেবল ভ্রান্তি আর ভ্রান্তি। আমাদেরকে তুমি সঠিক সহজ পথের উপর অবিচল রাখো। আমাদের উপর থেকে সকল বালা-মুসিবত দূর করে দাও। আমাদেরকে আমাদের শত্রুর উপর বিজয় দাও। আমাদের ঈমান, আক্বীদা ও আমলকে তুমি হেফাজত করো। আমীন! ছুম্মা আমীন!

[হে রহমান রাজাধিরাজ
তোমার কাছে এই ফরিয়াদ]
নবীজিকে না দেখাইয়া মরণ দিও না।
আল্লাহ গো, নবীজিকে না দেখাইয়া মরণ দিও না।
গোনাহ গারের গোনাহ খাতাহ মাফ না দিয়া নিও না।

আল্লাহ তুমি রাব্বুল আলামীন
(তোমার) হাবীব রাহমাতুল্লিল আলামীন
রাসুল বিনে বিচার দিনে গোনাহগার পার পাবে না
আল্লাহ গো, নবীজিকে না দেখাইয়া মরণ দিও না।

রাসুল আমার নূরে মুজাসসাম
এক নজরে দেখলে যারে দোজখ হয় হারাম
আমার দিলে নূরের বাতি না জালাইয়া নিও না
আল্লাহ গো, নবীজিকে না দেখাইয়া মরণ দিও না।

নবীজী দুই জাহানের ছরকার
আমার এমন কোন আমল নাই যে হওয়া যাবে পার।
তাঁর উছিলায় নাজাত দিও, পাপের দিকে চাইও না।

আল্লাহ গো, নবীজিকে না দেখাইয়ে মরণ দিও না।

ডঃ আব্দুল বাতেন মিয়াজী, মালমো, সুইডেন।

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Comment