আমরা সত্য বলা ভুলে গেছি!

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

– ডক্টর আব্দুল বাতেন মিয়াজী

হযরত ইউশা আ একজন নবী। উনি কেমন নবী তা বুঝতে হলে মুসা আ এর কিছু ঘটনার দিকে তাকাতে হবে। কুরআনে কয়েকটি স্থানে এই ইউশা আ এর প্রতি ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। হাদিসে উনার ব্যাপারে বিস্তারিত এসেছে নাম সহ। বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের দাসত্ব থেকে মুক্ত করার পর লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে বনী ইসরাইলকে নিয়ে সিনাই উপত্যকায় বসবাস করছিলেন মুসা আ। সেখান থেকে তাঁর প্রতি নির্দেশ এলো কেনানের দিকে অগ্রসর হবার। কেনান তথা জেরুজালেম তখন অন্য একটি জাতির দখলে ছিল। আল্লাহ্‌ পাক মুসা আ কে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে দূর থেকে জেরুজালেম দেখান এবং যুদ্ধ করে তা উদ্ধার করার নির্দেশ দেন। মুসা আ একথা তাঁর জাতিকে জানালে বনী ইসরাইল উত্তরে মুসা এবং তাঁর আল্লাহকে যুদ্ধ করে সে পবিত্র ভূমি উদ্ধার করার কথা বলে। মুসা তুমি আর তোমার খোদা গিয়ে যুদ্ধ করো। আল্লাহ্‌ পাক এতে খুবই অসন্তুষ্ট হন এবং অভিশপ্ত বনী ইসরাইলকে আরো দীর্ঘ ৪০ বছর মরুভূমিতে বিচরণ করার মাধ্যমে শাস্তি দেন।

মুসা আ এর ইন্তিকালের পর তাঁর ভাগিনা এবং নবুয়তের উত্তরাধিকারী হযরত ইউশা আ এর নেতৃত্বে যুদ্ধের মাধ্যমে পবিত্র ভূমি উদ্ধার হয়।

ইউশা আ বিভিন্ন সময়ে মুসা আ এর সঙ্গী হিসেবে সাথে থাকতেন। সূরা কাহফে কিছু ঘটনায় হযরত খিজির আ এর কথা আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই। খিজির আ এর সাথে দেখা করতে যাবার সময় মুসা আ নিজ ভাগিনা ও সাথী ইউশা আ কে সাথে নিয়ে যান। আল্লাহ্‌ পাক ইঙ্গিত দিয়েছিলেম দুই নদীর মিলনস্থলে যেখানে ভাজা মাছ জীবিত হয়ে চলে যাবে সেখানে খিজির আ কে পাওয়া যাবে। সে ভাজা মাছটি ভাগিনা ইউশা আ এর কাছে রাখা ছিল এবং মিশরের আলেকজান্দ্রিয়ার কাছে দুই সাগরের মিলনস্থলে তারা যখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখন ভাজা মাছ জীবিত হয়ে পানিতে নেমে গিয়েছিল (সেই স্থান সম্পর্কে কিছু সোর্স এমনটিই দাবি করছে)। এ দৃশ্য সাথী ইউশা আ দেখেছিলেন। কিন্তু মুসা আ তখন বিশ্রামরত থাকায় তাঁর বিশ্বামের ব্যাঘাত ঘটাননি।

এবার আসি মূল পয়েন্টে। সে ইউশা আ যখন নব্যুতের দায়িত্ব পান, আল্লাহ্‌ পাকের পক্ষ থেকে একটি ওহী আসে। সেখানে বলা হয়, বনী ইসরাইলের এক লক্ষ লোককে ধ্বংস করা হবে, যাদের মধ্যে ৪০ হাজার সৎ লোকও থাকবে। বাকি ৬০ হাজার থাকবে অসৎ লোক। নবী ইউশা জানতে চাইলেন, অসৎ লোকদের ধ্বংস হবার কারণ জানি, কিন্তু সৎ লোকদের কেন ধ্বংস করা হবে? উত্তরে আল্লাহ্‌ পাক জানান, এর কারণ এ সৎলোকগুলো অসৎলোকদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখে। তাদের সাথে পানাহার ও হাসি-তামাশায় যোগদান করে। আমার অবাধ্যতা ও পাপাচার দেখে কখনও তাদের চেহেরায় বিতৃষ্ণার চিহ্ন ফুটে উঠেনি। (বাহরে মুহীত, মূল, তাফসীর মা’আরেফুল কোরআন।)

এবার একটু ভেবে দেখুন তো আমাদের সমাজে এরকম মানুষের সংখ্যা কতো হবে যারা অন্যায়কারীকে অন্যায়কারী জেনেও তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে? “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে!” আমাদের সবাইকে সেই জাহান্নামের লেলিহান আগুনে দহনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কেননা, আমাদের সবার মাঝে আমি এই বিষয়টি লক্ষ্য করছি। অথচ আল্লাহ্‌ পাক বলেন, “আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম।” (সূরা আল ইমরান আয়াত: ১০৪)

ভালো লেগে থাকলে লেখাটি কপি করে নিজ নিজ টাইমলাইনে পোষ্ট করতে পারেন। আর দয়া করে নিচের কমেন্ট বক্সে অবশ্যই আপনার মতামত জানাবেন।]

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!

Leave a Comment