শাফায়াতকারীর দরজা

পোষ্টটি অন্যকে পড়ার সুযোগ করে দিতে শেয়ার করুন প্লিজ।

ডঃ আব্দুল বাতেন মিয়াজী (https://www.facebook.com/DrMiaji)
الحمدلله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد رسوله الكريم
স্বর্ণালংকিত কারুকার্যমণ্ডিত দরজার যে ছবিটি দেখতে পাচ্ছেন তা হল রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র রওজা মুবারকে প্রবেশের দরজা। এটি সর্বক্ষণ তালা বন্ধ থাকে। কেবলমাত্র পরিষ্কার-পরিচর্যা আর বিশেষ ব্যক্তিবর্গের আগমণে এটি উন্মুক্ত করা হয়। এই একই দরজা দিয়ে আবার রাসুল (দঃ) এর প্রাণপ্রিয় কন্যা, বেহেশ্তে মহিলাদের সর্দার, মা ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু তা’লা আনহার ঘরে যাবার রাস্তা। এই দরজাটি মসজিদে নববী (দঃ) এ রওজা মুবারকের পশ্চিম পার্শের দেয়ালে অবস্থিত। দরজার সামনেই অবস্থিত রিয়াজুল জান্নাহ বা জান্নাতের বাগিচা। রাসুল (দঃ) বলেছেন, আমার রওজা মুবারক এবং আমার মিম্বারের মধ্যখানের স্থানটি হলো জান্নাতের টুকরো। এই স্থানে বসে সাহাবা কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম দীনের অনেক মূল্যবান আলোচনা করতেন আর এবাদতে কাটিয়ে দিতেন। এখনো নবী প্রেমিকগণ এখানে বসে নবী (দঃ) এবং তাঁর সাহাবাদের স্মরণ করেন আর আল্লাহর এবাদতে মশগুল থাকেন।

ভাল করে লক্ষ্য করে দেখুন তালাটির উপরে ইমাম বুসাইরি রহঃ এর লিখিত কাসিদা-এ-বুরদাহের একটি পংতি অংকিত রয়েছে। সেটি হলোঃ
هو الحبيب الذي ترجى شفاعته لكل هول من الاهوال مقتحم
প্রিয় সখা খোদ এলাহির পরকালের কাণ্ডারি সে
কঠোর কঠিন বিপদকালে মুক্তি দয়ার ভাণ্ডারী সে।
(মাওলানা রুহুল আমীন কর্তৃক কাব্যাকারে অনুদিত)

এই বিশেষ ছন্দটি এই বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দরজার তালায় অংকিত করার পিছনে নিশ্চয়ই বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ এই দরজা দিয়ে যার কাছে যাওয়া যায় তিনি হলেন কাল কিয়ামতের কঠিন দিনে শাফায়াতকারী। হাউজে কাউসারের মালিক আর উম্মতের কাণ্ডারি। যেমনটি তিনি নিজেই বলেছেনঃ
“যে ব্যক্তি আমার কবর জিয়ারত করে তার জন্যে আমার পক্ষ থেকে শাফায়েত নিশ্চিত।”
সুনানে দার কাতানী, ২য় খন্ড, ২৭৮ পৃষ্ঠা)।

অন্য রেওয়াতে রয়েছে আবদুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (দঃ) কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে (আযান দিতে) শুনবে তখন সে যা যা বলে তোমরাও তা বলবে, এরপর তোমরা আমার উপর দরূদ পাঠ করবে; কারণ যে আমার উপর দরূদ পাঠ করবে আল্লাহ তাঁকে একটি দরুদের বিনিময়ে ১০ বার রহমত, মর্যাদা, বরকত প্রদান করবেন। এরপর তোমরা আমার জন্য আল্লাহর কাছে ওসীলা প্রার্থনা করবে; ওসীলা জান্নাতের এমন একটি মর্যাদার স্থান যা শুধুমাত্র আল্লাহর একজন বান্দাই লাভ করবেন। আমি আশা করি আমিই তা লাভ করব। যে ব্যক্তি আমার জন্য ওসীলা প্রার্থনা করবে তাঁর জন্য শাফায়াত প্রাপ্য হবে।”
(সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সালাত, নং ৩৮৪)

আল্লাহ আমাদেরকে রাসুল্ল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াত মঞ্জুর করুক। আমীন

পোষ্টটি ভালো লেগে থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানান প্লিজ!
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Comment